প্রফেসর ড. রাশিদুল হক’ একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক। তিনি কৃতী পরিবারের সন্তান। তাঁর দাদা ‘এসাহাক উদ্দিন মিঞা’ ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের সময়ে তৎকালীন মালদহ জেলার (চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ভারতের কিছু অংশ) একজন বিশিষ্ট আইনজীবী ও সমাজসেবী। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে রাজশাহী কলিজিয়েট স্কুল, রাজশাহী কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছেন এবং প্রতিটি স্তরে তিনি কৃতিত্বের সাথে ডিগ্রী লাভ করেন।
বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি)- প্রফেসর ড. রাশিদুল হকের জন্ম চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে। শহর ও গ্রামের আবহে তিনি বেড়ে উঠেছেন। তিনি নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত), হরিমোহন ইনস্টিটিউশন (১৮৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত) এবং নবাবগঞ্জ কলেজের একজন কৃতী ছাত্র ছিলেন। তাঁর পিতা এএসএম ইহতিশাম উল মূলক (তাশেম মিঞা) ছিলেন একজন খ্যাতিমান আইনজীবী ও সমাজসেবী। তাঁর মাতা সেলিনা বেগম চৌধুরী, এক ঐতিহ্যবাহী শ্যামপুর (বাজিতপুর) চৌধুরী বংশের উত্তরসূরি।
ড. রাশিদুল হক ১৯৭৪ ও ১৯৭৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ্যায় স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর মাস্টার্স করেন। ১৯৮৩ সালে রাশিয়ার ‘সেন্ট পিটার্সবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়’ থেকে জেনেটিক্স ও মলিক্যুলার বায়োলজি বিষয়ে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ড. রাশিদুল হক একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, গবেষক, গুণসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব, এবং প্রতিষ্ঠান ও ছাত্র গড়ার কারিগর। শিক্ষালাভ ও শিক্ষাদানের পাশাপাশি তাঁর জীবনে সংগীত হচ্ছে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর কথায় তিনি যদি শিক্ষক বা বিজ্ঞানী না হতেন, তবে সম্ভবত তিনি একজন সংগীতজগতের মানুষ হতেন।
পেশাগত জীবনে তিনি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (প্রাণিবিদ্যা বিভাগ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি শীর্ষ-স্তরের গবেষণা প্রতিষ্ঠান, এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ে (দীর্ঘ ২৫ বছর) অধ্যাপনা ও গবেষণা করেন। তিনি প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন উপ-উপাচার্য হিসেবে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮ হতে ২০২১ পর্যন্ত। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা জার্নালগুলোয় তাঁর শতাধিক গবেষণামূলক প্রকাশনা রয়েছে, যা উদ্ধৃত হয়েছে প্রায় সাত হাজার গবেষকের প্রবন্ধে। অনুপ্রাণ বিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞানে তাঁর অবদান আন্তর্জাতিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত। বিজ্ঞানে, বিশেষ করে চক্ষু-স্নায়ুবিজ্ঞানে তাঁর অবদান অপরিসীম। অক্সফোর্ড, ইম্পেরিয়াল কলেজ (লন্ডন), প্যাস্টর ইনস্টিটিউট (প্যারিস), হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে তাঁর গবেষণালব্ধ কাজ ভূয়সী প্রশংসিত।
ড. হকের প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘দানবীয় করোনাভাইরাস সার্স-কোভি-২: বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যালোচনা’, ‘স্মৃতির পাতায় আমার ছেলেবেলা ও কৈশোর’, ‘জিন থেকে প্রোটিন-জীবন পরিচালনায় দায়ভার’ এবং ‘কোষ ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান -অভিধান’ (প্রকাশনার অপেক্ষায়, বাংলা একাডেমি, ঢাকা)। এছাড়া, বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার প্রসারের উদ্দেশ্যে তাঁর দর্শনমনস্ক চিন্তাধারায় বিজ্ঞানভিত্তিক প্রবন্ধ বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এবং বিজ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইটগুলোতে (যেমন: www.bishleshon.com) নিয়মিত প্রকাশিত হয়। পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং গবেষণাক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন অধ্যাপক ড. রাশিদুল হক। {অসমাপ্ত…/ বিস্তারিত প্রকাশিতব্য গ্রন্থ- ‘আলোকিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ’ www.alokito-chapainawabganj.