‘আল মোস্তান’ একজন গুণী শিক্ষক ও সমাজসেবী। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুন্দরপুর ইউনিয়নে শিক্ষিত সমাজে তিনি বিশেষ সম্মানিত। এলাকার মানুষকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করার জন্য ১৯৫৭ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুন্দরপুর ইউনিয়নের গণমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় তিনি ‘ সুজন একাডেমী হাইস্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন। অবসরগ্রহণের আগপর্যন্ত সুজন একাডেমী হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষক হিসেবে তাঁর কণ্ঠ নিপূণতা, সাহিত্যপ্রেম এবং উদ্দীপনামূলক শিক্ষাদান ছাত্রদের মাঝে তাঁকে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তোলে। আলোকিত সমাজ গড়া, মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর মূল চিন্তা-চেতনা। সজ্জ্বন ও ধার্মিক মানুষ হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে।
‘মো. আল মোস্তান’ ১৯৩৩ সালের ১ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুন্দরপুর ইউনিয়নের সুন্দরপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ফাইজুদ্দিন বিশ্বাস এবং মাতা মায়মনা খাতুন। তিনি পিতা-মাতার জ্যেষ্ঠ সন্তান।
তিনি ১৯৫০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৫৩ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে আই.এ পরীক্ষায় ২য় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯৫৫ সালে বিএ পরীক্ষায় (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ১ম ব্যাচ) ৩য় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাসে এম এ শ্রেণিতে ভর্তি হন কিন্তু বিবিধ কারণে তা আর শেষ করতে পারেননি। সুজন একাডেমীর প্রধান শিক্ষক থাকাকালীন ১৯৬৬ সালে রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজে বিএড কোর্সে ভর্তি হন এবং ১৯৬৭ সালে হয় শ্রেণিতে বিএড পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথ উত্তীর্ণ হন।
১৯৫৫ সালের ১ জুন আল মোস্তানের শিক্ষকতা জীবনের শুরু। তিনি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার বাসুদেবপুর হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। খুব অল্পসময়ের মধ্যে এই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীর নিকট জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯৫৭ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত তিনি এই স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
‘আল মোস্তান’ কেবল একজন শিক্ষক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা নন, তিনি বাংলাদেশে আলোকিত মানুষ গড়ার পথিকৃৎ, আলোকিত মানুষের দিশারী। যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছেন। তাঁর নিরলস শ্রম, সুদূর প্রসারী দৃষ্টি, অক্লান্ত প্রচেষ্টা এবং শিক্ষা প্রতি অগাধ ভালোবাসার ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনগ্রসর, পশ্চাৎপদ শিক্ষার আলো বঞ্চিত প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুজন একাডেমী নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পথচলা শুরু হয়েছিল। তাঁর নেতৃত্বে অগনিত ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়েছে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেছে। তাঁর অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর সুযোগ্য ছাত্ররা অত্র এলাকায় ৮ টি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষাবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকেন নি বরং মানবিক মূল্যবোধ, সততা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের আদর্শে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলেছেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি এলাকার মুক্তিকামী মানুষদের সংগঠিত করেন। অস্ত্র হাতে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি কিন্তু অত্র অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে খাদ্য, আশ্রয় ও তথ্য দিয়ে মুক্তিবাহিনীকে সহায়তা করেন। {অসমাপ্ত…/ বিস্তারিত প্রকাশিতব্য গ্রন্থ- ‘আলোকিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ’ www.alokito-chapainawabganj.com (চাঁপাইনবাবগঞ্জের দু’শো বছর ইতিহাসের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত জীবনী ১ম ও ২য় খণ্ড) লেখক- মাহবুবুল ইসলাম ইমন}
আল মোস্তান