লায়লা রওশন

Share With
‘লায়লা আর্জুমান্দ বানু ওরফে লায়লা রওশন’ একজন সমাজসেবী-আলোকিত নারী, রোটারিয়ান ও লেখক। রাজশাহীতে গড়ে উঠা বৃদ্ধাশ্রম ‘সারভিস সেন্টার ফর এলডারলি পিপুল’ এর জমিদানকারী-সমাজসেবী ‘লায়লা রওশন’ ১৯৫৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মঈন উদ্দীন আহমেদ এবং মাতা আনোয়ারা বেগম। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি পিতা-মাতার তৃতীয় সন্তান।
তিনি কৃতী পরিবারের সন্তান। তাঁর দাদা মসহো উদ্দিন উদ্দীন আহমেদের ছোট ভাই ছিলেন উপমহাদেশের প্রথিতযশা রাজনীতিক-সমাজসেবী, আইনজীবী ‘ব্যরিস্টার খবীর উদ্দীন আহমেদ ওরফে কে. আহমেদ’। তৎকালীন ভারতবর্ষের রেলমন্ত্রী এবং অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলিম ব্যরিস্টার ‘খবীর উদ্দিন আহমেদ’ এর জন্মও চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট বিশ্বনাথপুরে। লায়লা রওশনের চাচাতো ভাই ছিলেন রাজশাহী অঞ্চলের কৃতী সাংবাদিক বুলবুল চৌধুরী।
`লায়লা রওশন’ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের কানসাট বিশ্বনাথপুর মাহেদুর রহমান গালস হাই স্কুল থেকে ১৯৭২ সালে এসএসসি, রাজশাহী মহিলা কলেজ থেকে ১৯৭৪ সালে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন।
স্কুল-কলেজ জীবন থেকে তিনি সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগী। স্কুল-কলেজ জীবনে ছোটগল্প, নাটক, কবিতা প্রভৃতি লিখে পুরস্কৃত হয়েছেন। ১৯৭২ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কানসাট ইউনিয়ন সাহিত্য মজলিস থেকে দক্ষতার প্রমাণপত্র/সার্টিফিকেট পেয়েছেন। ২০১৭ সালে তিনি ‘অনুভবে অন্তরঙ্গ’ নামে একটি কবিতা সংকলন প্রকাশ করেন। তিনি ভালো গান গাইতে পারেন। রাজশাহী পদ্মা রোটারি ক্লাবের অনুষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন গান গেয়ে প্রশংসিত হয়েছেন। রাজশাহীর পদ্মা রেডিও, দৈনিক রাজবার্তাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর স্বাক্ষাতকার প্রচার ও প্রকাশিত হয়েছে।
১৯৯০ সালে নওগাঁ জেলার দলিয়াবাড়ির এডভোকেট ওসমান গণির ছেলে শওকত রওশনের সাথে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হোন। শ্বশুরবাড়ি নওগাঁ হলেও তাঁর শ্বশুর এডভোকেট ওসমান গণি রাজশাহীর মহানগরের হোসনীগঞ্জ এলাকায় স্থায়ীভাবে দীর্ঘদিন বসবাস করেছেন। বর্তমানে সেখানেই লায়লা রওশন স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তাঁর স্বামী শওকত রওশন ছিলেন সনি রাংগসের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা। নওগাঁয় দলিয়াবাড়ির পৈত্রিক বসতভিটার তাঁদের অংশের সমস্ত জমি দান করে, শওকত রওশন ও লায়লা রওশন যৌথভাবে গড়ে তুলেছেন ‘ওসমান গনি হাফিজিয়া মাদ্রাসা’।
সমাজসেবী-দানশীল ‘লায়লা রওশন’ ২০০৭ সালে রাজশাহীর নওহাট্টার আলাই বিদিরপুর এলাকায় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান- সারভিস সেন্টার ফর এলডারলি পিপুল (বৃদ্ধাশ্রম) গড়ে তোলার লক্ষ্যে, ৭ বিঘা জমি (যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬৩ কোটি টাকা) দান করেন। তাঁর দানকৃত জমির উপর গড়ে উঠছে প্রতিষ্ঠানটি। রাজশাহীর স্থানীয় কয়েকজন স্বনামধন্য চিকিৎসক এবং মহৎ মানুষের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে। প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার লক্ষ্যে, তাঁরা বিভিন্নভাবে ফান্ডিং করছেন।
২০২৫ সালের ১৮ এপ্রিল এই বৃদ্ধাশ্রমের ‘কমিউনিটি মেডিক্যাল সেন্টার’ এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন উক্ত প্রতিষ্ঠানটির জমিদাতা, মহিয়সী নারী ‘লায়লা রওশন’। আগামীতে এই প্রতিষ্ঠানটি বৃদ্ধদের থাকা-খাওয়াসহ পূর্ণাঙ্গভাবে গড়ে উঠবে। বর্তমানে কমিউনিটি মেডিক্যাল সেন্টারে বৃদ্ধদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও সকালের নাস্তা দুপুরের লাঞ্চ দেয়া হচ্ছে।
স্বনামধন্য রোটারিয়ান হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। রাজশাহী পদ্মা রোটারিয়ান ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট, ট্রেজারার (দুই টার্ম)সহ বিভিন্ন মেয়াদে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ ৮ বছর পিএসসিসি এবং রোটারি ডিস্ট্রিক্ট এরিয়া জয়েন্ট সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেন। সমাজসেবী হিসেবে রোটারি থেকে তিনি ৮টি ক্রেস্ট-সম্মাননা পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি রোটারির অনারারী মেম্বার। ২০১০ সালে থাইল্যান্ড-ব্যাংককে অনুষ্ঠিত রোটারি ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি অংশগ্রহণ করেন। একই বছর তিনি ভারতের মেঘালয়, শ্রীলংক, চেরাপুঞ্জিও ভ্রমণ করেন।
রাজশাহীর ‘সেন্টার ফর এলডারলি পিপল’ এর ট্রাস্টি ও নির্বাহী সদস্য, রাজশাহী প্রবীণ হিতৈষী ও জরা বিজ্ঞান সমিতির আজীবন সদস্য, রাজশাহী ক্যান্সার হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টারের আজীবন সদস্য, নতুন ধারার গবেষণাধর্মী-সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘আলোকিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফাউন্ডেশন’ এর পৃষ্ঠপোষক সদস্য, রাজশাহী হাই কেয়ার স্কুলের আজীবন সদস্য, রাজশাহীর আঞ্জুমান ই-মফিদুল ইসলামের আজীবন সদস্য, ফ্যামিলি প্ল্যানিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আজীবন সদস্য, রাজশাহী তিলোত্তমার আজীবন সদস্য, রাজশাহী খ্রিস্টান সানডে ফ্রেন্ডশিপ কমিটির প্রকাশনা সম্পাদকসহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। {অসমাপ্ত…/ বিস্তারিত প্রকাশিতব্য গ্রন্থ- ‘আলোকিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ’ www.alokito-chapainawabganj.com (চাঁপাইনবাবগঞ্জের দু’শো বছর ইতিহাসের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত জীবনী ১ম ও ২য় খণ্ড) লেখক- মাহবুবুল ইসলাম ইমন}