সালীমা সারোয়ার

বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও নারী উদ্যোক্তা- সালীমা সারোয়ার ১৯৬৭ সালে বিয়ে করেন তৎকালীন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের বিনোদপুরে বসবাসরত প্রথিতযশা সঙ্গীত শিল্পী, সাহিত্যিক প্রফেসর ড.সারোয়ার জাহানকে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আজন্ম প্রতিবাদী সালীমা সারোয়ার ছাত্র জীবন থেকেই শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন দেখতেন, জড়িত ছিলেন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে।
নারী ও শিশু নির্যাতনমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ১৯৭৪ সাল থেকে বিশিষ্ট সমাজকর্মী সালীমা সারোয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে। সামাজিক বনায়নে নারীর হিস্যা আদায়ের কাজের স্বীকৃতির জন্য ১৯৯২ সালে তিনি ‘অশোকা ফেলোশিপ’ পদক লাভ করেন। নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ কাজের অভিজ্ঞতায় জোরপূবর্ক গৃহস্থলী কাজ যে দাসত্বের আধুনিক রুপায়ন তা তিনি জনসমক্ষে প্রথম আনেন। আর এ কাজের জন্য তিনি ২০০১ সালে ‘এ্যান্টি স্লেভারী ইন্টারন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য ২০০৬ সালে তিনি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক সংবর্ধিত হন। দীর্ঘ ১৫ বছর নারী ও শিশু অধিকার আদায়ের মিছিলে তিনি দেশীয় আবার কখনও আন্তর্জাতিক সংস্থার ব্যানারে সম্পৃৃক্ত হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ১৯৮৯ সালে তিনি তাঁর স্বামী প্রফেসর ড.সারোয়ার জাহান ও কয়েকজন সমাজকর্মীর অনুপ্রেরণায় রাজশাহীতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘এ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভলপমেন্ট-এসিডি’ নামের উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংগঠন। পরবর্তীতে এই সংস্থার মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনোগোষ্ঠী বিশেষ করে নারী ও শিশুর অবস্থা ও অবস্থানের পরিবর্তনের লক্ষ্যে তিনি নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করেন। ১৭টি বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন এই সংস্থাকে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি জেলায় ‘এ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভলপমেন্ট-এসিডির’ কার্যক্রম রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ের জননী সালীমা সারোয়ার বর্তমানে এসিডির’ প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। {অসমাপ্ত…/বিস্তারিত প্রকাশিতব্য মূল গ্রন্থ- ‘আলোকিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ’ (চাঁপাইনবাবগঞ্জের দু’শো বছর ইতিহাসের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংক্ষপ্তি জীবনী)}