মোহাম্মদ আলী কামাল মিয়া

একাত্তরের রণাঙ্গনের অন্যতম বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট সমাজসেবী মোহাম্মদ আলী কামাল মিয়া ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহারাজপুরের হিন্দুপাড়ায় সম্ভ্রান্ত মিয়া পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সদর আহম্মেদ মিয়া ছিলেন অত্রাঞ্চলের বিশিষ্ট সমাজসেবী ও ধনাঢ্য ব্যক্তি। তিনি ১৯৬৬ সালে মহারাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি, ১৯৬৮ সালে নবাবগঞ্জ কলেজ থেকে এইচ.এস.সি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৪ সালে ¯œাতক ও পরবর্তীতে ¯œাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।
১৯৭১ সালে মোহাম্মদ আলী কামাল ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র এবং তৎকালীন ছাত্রলীগের অন্যতম নেতা। অসহোযোগ আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে নিজ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফিরে এসে প্রতিরোধযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে নেতৃত্ব দেন, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জকে ১৪ এপ্রিল ১৯৭১ পর্যন্ত মুক্ত রাখেন। পরবর্তীতে তিনি ভারতের শিলিগুড়িতে উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। অসহোযোগ আন্দোলনের শুরু থেকে মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধের নীতি নির্ধারণ ও রণকৌশল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এ সময় এক পর্যায়ে তাঁর গ্রামের বাড়িটিও মুক্তিযুদ্ধের একটি ঘাঁটিতে পরিণত হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা অন্ধকল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মোহাম্মদ আলী কামাল। সমাজসেবী মোহাম্মদ আলী কামালের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং রাজশাহীর লায়ন্সসহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্মিলিত উদ্যোগে ১৯৯১ সালে রাজশাহী শহরে ‘রাজশাহী লায়ন্স চক্ষু হাসপাতাল’ গড়ে উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহী লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের দ্বিতীয় শাখা ১৯৯৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক উদ্বোধন করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় শাখা লায়ন চক্ষু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ মোহাম্মদ আলী কামালকে রাজশাহী লায়ন্স গভর্নর ২০১৩ সালে স্বর্ণপদকে ভূষিত করেন। বাংলাদেশ স্কাউট, রাজশাহীতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ২০০৫ সালে তৎকালীন মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক রৌপ্য ইলিশ পদক লাভ করেন। বন ও পরিবেশের উপর বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে ২০১২ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে রাষ্ট্রীয় পদক প্রদান করেন। সমাজসেবামূলক কাজের জন্য ২০০৭ ও ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক আমেরিকান বাইওগ্রাফিক্যাল সোসাইটির স্বর্ণপদকসহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক কাজের জন্য বহু এ্যাওয়ার্ড-সম্মাননা লাভ করেন সমাজসেবী মোহাম্মদ আলী কামাল। {অসমাপ্ত…/ বিস্তারিত প্রকাশিতব্য মূল গ্রন্থ- ‘আলোকিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ’ (চাঁপাইনবাবগঞ্জের দু’শো বছর ইতিহাসের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত জীবনী) }