এনামুল হক

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিজীবী এনামুল হক ১৯৩১ সালের ১ জানুয়ারী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা প্রয়াত মতিউল্লাহ এবং মাতা প্রয়াত মাহমুদা খাতুন। ১৯৪৫ সালে তৎকালীন ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার এ্যাডওয়ার্ড হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৪৭ সালে কুষ্টিয়া কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স, ১৯৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ (বাংলা) ডিগ্রী অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সাহিত্য, নাট্য প্রভৃতি সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন।
একাত্তরের মহান মৃক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক। চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৬৮-৬৯ এর গণ অভ্যূত্থান, অসহোযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নেতৃস্থানীয় পরামর্শকের ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি আওয়ামীলীগ সমর্থিত ‘স্থানীয় বুদ্ধিজীবী কমিটির প্রধান’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পেশাগত জীবনে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে সুনাম এবং সাফল্যের সাথে দীর্ঘদিন তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালের পর থেকে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজে ‘একুশ উদযাপন কমিটির আহবায়ক’ হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্থানীয় বুদ্ধিজীবী এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে এনামুল হকের ব্যাপক পরিচিতি ও সুনাম রয়েছে। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সংসদের অন্যতম সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে (২০০০ সালের পর থেকে অদ্যাবধি) দায়িত্ব পালন করছেন। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক পরিষদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে ২০১৩ সালে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমী থেকে ২০১৪ সালে তাঁকে ‘গুণিজন সম্মাননা-পদক’ প্রদান করা হয়।
ব্যক্তিগত জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক তিনি। তাঁর সহধর্মীনি মিসেস মর্জিনা হক চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্যতম নারীনেত্রী এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী হিসেবে ইতিমধ্যেই সুনাম অর্জন করেছেন। { অসমাপ্ত…/ বিস্তারিত প্রকাশিতব্য মূল গ্রন্থ- ‘আলোকিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ’ (চাঁপাইনবাবগঞ্জের দু’শো বছর ইতিহাসের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংক্ষিপ্ত জীবনী) }